Sunday, July 19, 2026

বর্তমান বাংলাদেশে প্রধান সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বটা আসলে কোথায় ?

বাংলাদেশে প্রধান সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বটা মূলত বাঙালি মুসলমান ও রাবীন্দ্রিক মুসলমানদের মধ্যে । রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যের প্রতি ব্যক্তিগত ভালোলাগা বা না-লাগার সাথে এই দ্বন্দ্বের  আসলে কোনো সম্পর্ক নাই । রাবীন্দ্রিক মুসলমানরা রবীন্দ্র-সংস্কৃতিকে  বাঙালিত্বের একমাত্র সহিহ মাপকাঠি হিসেবে হাজির করে  এবং তারা বাংলাদেশের গ্রামীণ ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর মুসলমানিক  সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তিগুলোকে "সাম্প্রদায়িক", "বহিরাগত", "পশ্চাদপদ " বা "কম পরিশীলিত" হিসেবে অপরায়ন করে। 


১৯৭১: ইতিহাসের গোলকধাঁধা এবং কিছু অপ্রিয় সত্য

 আমাদের প্রচলিত রাজনৈতিক বয়ানে ১৯৭১ সালকে একটি ‘ধর্মনিরপেক্ষ পবিত্র তীর্থস্থান’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে আমাদের ইতিহাসের শুরু এবং শেষ। কিন্তু একজন নিরপেক্ষ বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে ইতিহাস কখনোই একরৈখিক (Linear) নয়। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও যখন পাকিস্তান, ভারত এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তিগুলোর বয়ান একে অপরের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তখন বুঝতে হবে আমরা ইতিহাসের কোনো সরল সত্য নয়, বরং একটি জটিল গোলকধাঁধায় বন্দি হয়ে আছি। কেন আজও এই আলোচনা প্রাসঙ্গিক? কারণ, যে অমিমাংসিত প্রশ্নগুলো ১৯৭১-এর জন্ম দিয়েছিল, সেগুলো আজও আমাদের তাড়া করে ফিরছে।


বঞ্চনা ছাড়িয়ে যখন ‘অবজ্ঞা’ বড় হয়ে দাঁড়ালো

১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট কেবল জিডিপির অসম বণ্টন বা অর্থনৈতিক বৈষম্যের গল্প নয়। পশ্চিম পাকিস্তানি এলিটদের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের প্রতি যে গভীর ‘সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অবজ্ঞা’ ছিল, সেটিই ছিল বিভাজনের আসল বীজ। কুদরতুল্লাহ সাহাব তাঁর আত্মজীবনী ‘সাহাব নামা’-তে একটি কুৎসিত চিত্র তুলে ধরেছেন। করাচির এক বৈঠকে ঢাকার সরকারি অফিসের জন্য স্যানিটারি সাপ্লাই কেনার প্রস্তাব উঠলে পাকিস্তানি এলিটরা উপহাস করে বলেছিলেন, "বাঙালিরা তো কলাগাছের আড়ালে কাজ সারে, তাদের জন্য কোমড বা ওয়াশবেশিনের কী দরকার?"

এই অবজ্ঞা বাঙালির ধর্মীয় সত্তা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তৎকালীন গভর্নর ফিরোজ খান নূন মন্তব্য করেছিলেন যে, বাঙালিরা হলো ‘অর্ধেক মুসলমান’। তিনি এমনকি বাঙালিদের খতনা বা সুন্নতে খতনা নিয়েও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিলেন। ভৌগোলিক দূরত্ব ছাপিয়ে দুই অংশকে এক রাখার যে ‘ইসলামী সেতুবন্ধন’ থাকার কথা ছিল, পশ্চিম পাকিস্তানি এলিটদের এই ‘জাহিলিয়াত’ বা অহংবোধ সেই সেতুটি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল।

"আমাদের মুসলমানিত্ব কি এখন লুঙ্গি তুলে তোমাদের প্রমাণ করে দেখাব?" — মাওলানা ভাসানী (ফিরোজ খান নূনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়)


পর্দার পেছনের কারিগর: সিরাজুল আলম খান ও ‘নিউক্লিয়াস’

ইতিহাসের গভীরে তাকালে দেখা যায়, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা কেবল একজন নেতার রোমান্টিক আহ্বানে তৈরি হয়নি। ১৯৬০-এর দশকের শুরু থেকেই সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে ‘নিউক্লিয়াস’ নামক একটি গোপন সংগঠন সক্রিয় ছিল। এই তরুণ ছাত্রনেতারা মার্ক্সবাদ, লেলিনবাদ এবং মাওবাদী আদর্শে গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।

যেই পতাকা, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং স্বাধীনতার ইশতেহার আমরা দেখি, তার সবটুকুই ছিল এই রেডিক্যাল ছাত্রশক্তির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফসল। যখন শেখ মুজিব আলোচনার টেবিলে সমঝোতার পথ খুঁজছিলেন, এই নিউক্লিয়াস তখন রাজপথ নিয়ন্ত্রণ করছিল। ইতিহাসের এক অপ্রিয় সত্য হলো—মুজিব যখন আলোচনার টেবিলে ব্যস্ত, তখন এই উগ্র জাতীয়তাবাদী ছাত্রশক্তিই জনতাকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল।


প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন বনাম স্বাধীনতা: একজন বাস্তববাদী মুজিব

শেখ মুজিবুর রহমানকে কেবল একজন ভাবাবেগী নেতা হিসেবে দেখা ইতিহাসবিস্মৃতি। তিনি ছিলেন একজন প্রখর বাস্তববাদী বা ‘ম্যাকাভেলিয়ান’ নেতা। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের অবমুক্ত হওয়া নথিতে আর্চার ব্লাডের রিপোর্টে দেখা যায়, ১৯৭১-এর জানুয়ারিতে ইয়াহিয়া ও মুজিবের মধ্যে একটি গোপন সমঝোতা হয়েছিল—যেখানে মুজিব প্রধানমন্ত্রী এবং ইয়াহিয়া প্রেসিডেন্ট থাকার কথা ছিল।

এমনকি ৭ই মার্চের সেই মহাকাব্যিক ভাষণের শেষেও তিনি ‘জয় পাকিস্তান’ (বা জিয়ে পাকিস্তান) বলেছিলেন, যার সাক্ষী এ কে খন্দকার এবং অলি আহাদের মতো ব্যক্তিত্বরা। এটি কোনো দুর্বলতা নয়, বরং একজন বাস্তববাদী নেতার কৌশল ছিল—যিনি নিয়মতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরকে অগ্রাধিকার দিচ্ছিলেন। ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুনের ভাষায় তিনি ছিলেন একজন ‘অনিচ্ছুক লিবারেটর’, যাকে পরিস্থিতির চাপে পড়ে এবং ভাগ্যচক্রে একটি স্বাধীন দেশের হাল ধরতে হয়েছিল।

"১৯৭০ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থান ছিল ১৯৪৬ সালের জিন্নাহর মতো—পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অবিসংবাদিত নেতা।" — ডক্টর মাহমুদুর রহমান (দ্যা পলিটিক্যাল হিস্ট্রি অফ মুসলিম বেঙ্গল)


ভুট্টো: অখণ্ড পাকিস্তানের আসল ঘাতক

পাকিস্তান ভেঙে যাওয়ার পেছনে যদি একক কোনো অপরাধী চিহ্নিত করতে হয়, তবে তিনি জুলফিকার আলী ভুট্টো। ইয়াহিয়া খানের হলফনামা এবং ঐতিহাসিক দলিলগুলো সাক্ষ্য দেয় যে, ভুট্টোর ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহাই ভারতকে হস্তক্ষেপের চূড়ান্ত সুযোগ করে দিয়েছিল।

ভুট্টো কোনোভাবেই একজন বাঙালির অধীনে কাজ করতে রাজি ছিলেন না। তাঁর ইগো এবং রাজনৈতিক জেদই পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে সশস্ত্র যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। ৭১-এর যুদ্ধ কেবল বাইরের ষড়যন্ত্র ছিল না, বরং এটি ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ শাসকশ্রেণির ক্ষমতার লালসার অনিবার্য পরিণতি।


আদর্শিক ব্যর্থতা এবং একটি অসম্পূর্ণ প্রকল্প

পাকিস্তান ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ হিসেবে ব্যর্থ হয়েছে কারণ এটি ছিল একটি ধর্মহীন এলিট শ্রেণির তৈরি ‘ইসলামী মুখোশধারী’ সেকুলার প্রজেক্ট। অন্যদিকে, এর প্রতিক্রিয়ায় জন্ম নেওয়া বাংলাদেশের ‘ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদ’ মূলত ভারতীয় আধিপত্যের একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

আমরা কি আসলেই মুক্তি পেয়েছি? ইতিহাসের এক নিষ্ঠুর পরিহাস হলো, ১৯৭১-এর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যে কায়দায় উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ বা বালুচিস্তানে দমন-পীড়ন চালিয়েছিল, বর্তমান বাংলাদেশেও গুম, খুন এবং ‘আয়না ঘর’-এর সংস্কৃতি সেই একই নিপীড়ক চরিত্রের প্রতিফলন ঘটায়। লেখকের ভাষায়, "আমরা ইসলামের ‘রুহ’ বা আত্মা হারিয়েছি এবং তা প্রতিস্থাপন করেছি মানুষের তৈরি ত্রুটিপূর্ণ ‘তন্ত্র-মন্ত্র’ দিয়ে।" আমরা তথাকথিত প্র্যাগমাটিজমের দোহাই দিয়ে স্বল্পমেয়াদী লাভ খুঁজছি, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আমরা এক ভয়াবহ ‘দুষ্টচক্রে’ বন্দি হয়ে পড়েছি।


উপসংহার: আমাদের গন্তব্য কোথায়?

১৯৭১ সালের ঘটনাপ্রবাহ আমাদের দেখায় যে, রাষ্ট্রযন্ত্রের চরিত্র না বদলালে কেবল মানচিত্র বদলিয়ে প্রকৃত মুক্তি আসে না। তৎকালীন পাকিস্তানি এলিটদের অবজ্ঞা আর বর্তমানের শাসনব্যবস্থার নিপীড়ন—দুটির উৎসই মূলত এক। আমরা ‘সিরাত-আল-মুস্তাকিম’ বা ইনসাফের সরল পথ ছেড়ে দিয়ে রাজনৈতিক চাতুর্যের গোলকধাঁধায় ঘুরছি।

আজ ৫৩ বছর পর আমাদের নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করা প্রয়োজন: আমরা কি কেবল একটি ভূখণ্ডগত স্বাধীনতা চেয়েছিলাম, নাকি একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ? যদি লক্ষ্য হয় ইনসাফ, তবে আমরা কি আজও সেই একই শোষক শ্রেণির হাতে বন্দি নই? আমরা কি কেবল শৃঙ্খল পরিবর্তন করছি, নাকি আসলেই মুক্ত হতে পেরেছি? যতক্ষণ না আমরা মানুষের তৈরি ত্রুটিপূর্ণ তন্ত্রের ঊর্ধ্বে উঠে একটি শাশ্বত ও ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থার দিকে ফিরে আসছি, ততক্ষণ এই গোলকধাঁধা থেকে আমাদের মুক্তি নেই।


( আসিফ আদনানের দেয়া একটি লেকচারের এ আই সারমর্ম )


ইনশা আল্লাহ ইসলামের বিজয় আসবেই যদি আমরা ......

 ব্যাক্তিগত পর্যায়ে ছাত্র-জনতা ওয়াহানকে (দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা) পরাজিত করতে পেরেছিল, তাই আল্লাহর অসীম রহমতে ৫ই আগস্টে আমরা মাফিয়া সর্দারনী হাসিনাকে উৎখাত করতে পেরেছি । ঠিক তেমনিভাবে আল্লাহর দ্বীনের বিজয় আসবেই যদি আমরা আমাদের ওয়াহানকে  ইসলামের জন্য পরাজিত করতে পারি ইনশা আল্লাহ ।

আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘শীঘ্রই মানুষ তোমাদেরকে আক্রমন করার জন্য আহবান করতে থাকবে, যেভাবে মানুষ তাদের সাথে খাবার খাওয়ার জন্য একে-অন্যকে আহবান করে।’

জিজ্ঞেস করা  হলো, ‘তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হবো?’ তিনি বললেন, ‘না, বরং তোমরা সংখ্যায় হবে অগণিত কিন্তু তোমরা সমুদ্রের ফেনার মতো হবে, যাকে সহজেই সামুদ্রিক স্রোত বয়ে নিয়ে যায় এবং আল্লাহ তোমাদের শত্রুর অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দিবেন এবং তোমাদের অন্তরে আল-ওয়াহ্হান ঢুকিয়ে দিবেন।’ জিজ্ঞেস করা হলো, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.),আল– ওয়াহ্হান কি?’ তিনি বললেন, ‘দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।’ (মুসনাদে আহমদ)


Saturday, July 18, 2026

একটি সুস্থ দাম্পত্য জীবনের জন্য অবশ্য পালনীয় তিনটি মূলনীতি

 নিম্নে উল্লেখিত তিনটি মূলনীতি একটি সুস্থ দাম্পত্য জীবনের জন্য অবশ্য পালনীয়ঃ

১.  স্বামী/স্ত্রী উভয়ে উভয়ের নিত্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক চাহিদা পুরণ নিশ্চিত করেন

২.  স্বামী স্ত্রীর সাথে শলাপরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেন

৩.  স্ত্রী স্বামীকে পরিবারের নেতা হিসাবে সম্মান করেন এবং তাঁর শারিয়া অনুমোদিত আদেশ/সিদ্ধান্ত কে মেনে নেন যদিও অনেকক্ষেত্রে সেগুলো স্ত্রীর কাছে অপছন্দনীয় হয়


সন্তানদের প্রতি বাবার প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য কি কি?

 সন্তান জন্মানোর আগে : 

---------------------------------

১. যথাসম্ভব একজন মুত্তাকী মহিলাকে বিয়ে করা 

২. স্ত্রী সহবাসের আগে দুয়া পড়া যাতে অনাগত সন্তান শয়তানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পায় 

৩. নিজেকে একজন মুত্তাকী এবং দায়িত্বশীল লিডার হিসাবে গড়ে তোলা 

সন্তান জন্মানোর পর : 

--------------------------------

১. একটি সুন্দর অর্থবহ নাম দেয়া যা শারিয়া অনুমোদিত 

২. আকিকা দেয়া এবং ছেলে সন্তান হলে খৎনা করানো 

৩. সন্তানদের ভরণপোষণ এর জন্য হালাল উপার্জন থেকে ব্যয় করা 

৪. সন্তানদের দ্বীনের শিক্ষা দেওয়া 

৫. সন্তানদের জন্য যথাসম্ভব একটি পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক ইসলামিক পরিবেশ নিশ্চিত করা 

৬. সন্তানদের সাথে যথেষ্ট পরিমাণ সময় কাটানো যাতে করে বাবা ও সন্তানদের মাঝে ভালবাসা ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং বাবার উপস্থিতিতে সন্তানরা নিরাপদ বোধ করে 

৭. মেয়ে সন্তানদের মুত্তাকী ছেলের সাথে বিয়ে দেয়া

৮. সন্তানদের মাঝে কোনরকম পক্ষপাতমুলক আচরণ না করা, হোক সে ছেলে সন্তান কিংবা মেয়ে সন্তান 

৯. সন্তানদের নিত্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক চাহিদা পুরণ  নিশ্চিত করা 

১০. সর্বোপরি বাবা এবং স্বামী হিসাবে নিজেকে একজন ইসলামিক রোল মডেল হিসাবে উপস্থাপন করা


কেন ইসলাম এবং কুফর দুটোই জানা জরুরী ?

ইসলামকে বোঝার স্বার্থেই কুফরকে জানা জরুরী কারণ এ দুটির যেকোনো একটি বিষয়ে অজ্ঞতা থাকলে তাদের মধ্যকার সীমারেখা কোথায় কিংবা তাদের মধ্যে মিল বা অমিল কোথায় এটা অনুধাবন করা সম্ভব হয় না, ফলে অনেকের মধ্যেই দেখা যায় যে তারা দুটো পরস্পর বিরোধী আইডিওলজিকে ধারণ করছেন একই সাথে।  এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে সেকুলার মুসলিম, আপনি একই সাথে মুসলিম এবং সেকুলার হতে পারেন না, কারণ এটা সম্ভব না যদি আপনি এই দুটির ব্যাপারে সম্যক ধারণা রাখেন ।

"ওয়ার অন টেরর" -এর বাংলা অর্থ কি?

প্রথম ব্যক্তি # বলেন তো  বর্তমান বিশ্বে চলমান "ওয়ার অন টেরর" -এর বাংলা অর্থ কি?


দ্বিতীয় ব্যক্তি #  সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ 


প্রথম ব্যক্তি #  উহু, হইলো না, বাংলাদেশে এর মানে হইলো "মুক্তিযুদ্ধের চেতনা"


ইসলাম কি মানবতার ধর্ম ?

 প্রথম ব্যাক্তি # ইসলাম মানবতার ধর্ম

দ্বিতীয় ব্যাক্তি # আসলে ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম, ইসলামকে শুধু মানবিক ধর্ম বলা উচিত না 

প্রথম ব্যাক্তি # তার মানে তুমি বলতে চাচ্ছ ইসলাম একটি অমানবিক এবং অসহিষ্ণু ধর্ম

দ্বিতীয় ব্যাক্তি # না আমি ঠিক সেটাও বলিনি।

প্রথম ব্যাক্তি # তোমার কথার অর্থ তো তাই দাড়ায়

দ্বিতীয় ব্যাক্তি # ঠিক আছে এবার না হয় আমার উত্তরের ব্যাখ্যা দিচ্ছি। প্রথমত, আপনি বললেন ইসলাম মানবতার ধর্ম। এখন কথা হচ্ছে কোন দৃষ্টিভঙ্গির আঙ্গিকে আপনি মানবতার বিচার করছেন। আপনি যদি লিবারেল ভ্যালু অনুযায়ী বিচার করেন তাহলে ইসলাম অবশ্য়ই একটি অমানবিক ধর্ম। এখানে সমকামীদের, মুর্তাদদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, চুরি করলে হাত কেটে দেওয়া হয়, বিবাহিত লোক জিনা করলে পাথর ছুড়ে মারা হয়, এ সবকিছু বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত মানবতার বিচারে নির্মম হত্যাকান্ড। কিনতু যদি আপনার রেফারেন্স পয়েন্ট ইসলাম হয়ে থাকে তাহলে এ সবই মানবিক কারণ আল্লাহ ভালো জানেন কোনটা আমাদের জন্য ভালো আর কোনটা খারাপ, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক।

দ্বিতীয়ত, আপনি মনে করেছেন যেহেতু আমি বলেছি "ইসলাম আল্লাহর একমাত্র মনোনীত ধর্ম" আপনি ধরে নিয়েছেন এর মানে হলো অন্য ধর্মের প্রতি অসহিষ্ণুতার প্রকাশ। মোটেও তা নয়। প্রথমত এই কথাটি আমার নয় এটি স্বয়ং আল্লাহ পাক কোরানে বলেছেন আবার উনিই আমাদের বলেছেন বিধর্মীদের কে ইসলামের ব্যাপারে জোর করা যাবেনা, তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করতে হবে। এখানেও ঠিক আগের মত যদি আমার রেফারেন্স পয়েন্ট হয় সেকুলারিসম তাহলে সব ধর্মই আমার কাছে সমান কিনতু ইসলাম যদি আমার রেফারেনস পয়েন্ট হয় তাহলে ইসলামই আমার কাছে একমাত্র সত্য ধর্ম। ইসলাম কে একমাত্র সত্য ধর্ম বলে মানলে তা অন্য ধর্মের অনুসারীদের অবগ্গা কিংবা অসহিষ্ণুতার প্রকাশ করা হয় না।

প্রথম ব্যাক্তি # ঠিক আছে বুঝলাম, তো তুমি কি বলতে চাচ্ছ ইসলাম মানবতার ধর্ম, শান্তির ধর্ম এইসব আমরা বলব না

দ্বিতীয় ব্যাক্তি # না এগুলো বলুন , কিন্তু সেইসঙ্গে এটাও স্পষ্ট করে বলুন যে এটি ধর্মনিরপেক্ষ উদারনৈতিক মূল্যবোধ অনুযায়ী নয়। কারণ বর্তমানে এই মূল্যবোধগুলোই সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত ও প্রচলিত। তাই স্বাভাবিকভাবেই যে কেউ এই মূল্যবোধের ভিত্তিতে ইসলামকে বিচার করবে, এবং তখন তার কাছে আপনার কথাগুলো অসত্য বা বাস্তবতার সঙ্গে অসংগত বলে মনে হতে পারে। 


ভারত প্রেম

 (ফেসবুকে কথোপকথন)


পাশের বাসার আংকেল # ক্রিকেটে ভারত শ্রীলংকার কাছে হেরেছে কিন্তু বাংলাদেশের কাছে তো আর হারেনি অথচ তুমি এটা নিয়ে যেভাবে উল্লাস করছো তা মোটেও শোভনীয় নয়। আর ভারত সম্পর্কে এইসব আজে বাজে কথা বলার আগে তোমার মনে রাখা উচিত ভারত আমাদেরকে একাত্তরে আশ্রয় দিয়েছে সবধরণের সাহায্য করেছে 


যুবক # আংকেল ভারত কোনো চ্যারিটি অর্গানাইজেশন না যে আমাদেরকে শুধুমাত্র মানবিক কারণে সাহায্য করেছে।  সে এটা করেছে তার চির শত্রু পাকিস্তানকে  দুর্বল করতে।  স্বাধীনতা পরবর্তী আমাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় আগ্রাসন এবং শোষণ নীতি দেখলেই সেটা পরিষ্কার বোঝা যায়।


পাশের বাসার আংকেল # তোমার এই ভারত বিদ্বেষী মনোভাব ঠিক কি কারণে তা আমি ভালো মতোই বুঝি। ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস তোমাকে অন্ধ করে দিয়েছে


যুবক #  আপনার অন্ধ ভারত প্রেমও একটি ধর্মীয় অন্ধ বিশ্বাস থেকে এসেছে

 

পাশের বাসার আংকেল # আমি কোনো ধর্মে বিশ্বাস করিনা, আমি নাস্তিক

 

যুবক # জ্বি না, আপনিও ধার্মিক, আপনার ধর্মের নাম ইসলাম বিদ্বেষ


বাচ্চাদের উপর ধর্ম চাপানো - ২

 প্রথম ব্যাক্তি : আমি ছোট থাকতেই বাচ্চাদেরকে কোনো বিশেষ ধর্মের অনুসারী করে গড়ে তোলার বিপক্ষে। আমি মনে করি এটা ফেয়ার না কারণ ওরা বুঝে উঠার আগেই আমরা ওদেরকে কোনো একটি ধর্মের প্রতি বায়াস করে ফেলছি।  তাই আমি আমার বাচ্চাদের কোনো ধর্মীয় শিক্ষা দিচ্ছিনা , ওরা বড় হয়ে নিজেরাই বেছে নেবে ওদের যেটা ভালো লাগে

দ্বিতীয় ব্যাক্তি  : হুমম , তার মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন আপনার বাচ্চারা ধর্মের ব্যাপারে কোনো বায়াস ছাড়াই বড় হচ্ছে কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক তা নয়, ওরাও একটি বায়াস নিয়েই বড় হচ্ছে

প্রথম ব্যাক্তি: কিভাবে ?

দ্বিতীয় ব্যাক্তি : প্রথমেই আপনার আইডিওলজিক্যাল অবস্থানটা পরিষ্কার করে নেয়া যাক। আপনার মতে ধর্ম একটি ব্যক্তিগত বিষয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় এর নাক গলানোর কোনো সুযোগ নেই। আমি কি ঠিক বললাম?

প্রথম ব্যাক্তি: জ্বি ঠিক বলেছেন

দ্বিতীয় ব্যাক্তি : আপনি নিজেকে মুসলিম হিসাবে দেখেন কিন্তু ইসলাম ধর্মকে একমাত্র সত্য ধর্ম হিসাবে দেখেন না এবং আপনি মনে করেন সব ধর্মই সমান।

প্রথম ব্যাক্তি: জ্বি এটাও ঠিক ধরেছেন

দ্বিতীয় ব্যাক্তি : তার মানে হচ্ছে আপনি সেক্যুলার লিবারেল আইডিওলজিতে বিশ্বাস করেন। এই আইডিওলজি মানুষের স্পিরিচুয়াল পিপাসাকে অস্বীকার করেনা আবার এই পিপাসা পূরণ করার জন্য কোনো গাইডেন্সও দেয় না।  মানুষ কাকে সিজদা করলো সেটা নিয়ে এর কোনো মাথা ব্যাথা নেই। ধর্ম এর কাছে একটি গৌণ ব্যাপার। ঠিক এ কারণেই আপনার সন্তান বড় হয়ে কোন ধর্মে দীক্ষিত হলো সেটা আপনার কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।

প্রথম ব্যাক্তি: কিন্তু ধর্মের ব্যাপারে এখানে বায়াসনেসটা  কোথায় ?

দ্বিতীয় ব্যাক্তি : আমার আরও একটু ব্যাখ্যা বাকি আছে।  আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই সেক্যুলার লিবারেল আইডিওলজি যেটা আপনার জীবনের মাপকাঠি। যেটা দিয়ে আপনি ধর্মকেও  বিচার বিবেচনা করেন। তো সত্যিকার অর্থে আপনি উপাসনা করেন সেক্যুলার গডকে এবং এটাই আপনার ধর্ম। বর্তমান বিশ্বে এই সেক্যুলার গডের জয়জয়কার।  দেশ, জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সবাই (খুবই ক্ষুদ্র ব্যতিক্রম ব্যতীত) এই সেক্যুলার গডের অনুসারী। আমাদের ছেলেমেয়েরা দিনভর এই সেক্যুলার গডের শিক্ষাই পাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ব্যবস্থা, বিশ্ব ব্যবস্থা সবই চলছে এই গডের শিক্ষা অনুসারে। এমনকি ওদের সমস্ত  এন্টারটেইনমেন্টও এই শিক্ষার আলোকেই   গড়া। তো এর মানে হচ্ছে আপনি সত্যিকার অর্থে যে ধর্মে বিশ্বাস করেন আপনার ছেলেমেয়েরাও ১০০%   ঠিক সেই ধর্মের শিক্ষাই  পাচ্ছে। আপনি না শেখালেও রাষ্ট্র এবং  বিশ্ব আপনার  বাচ্চাদের সেক্যুলার গডের  শিক্ষা দিচ্ছে । অন্য ধর্মের তুলনায় আপনার সেক্যুলার ধর্ম আনপ্যারালাল প্রিভিলেজ পাচ্ছে। এইরকম একটি পরিবেশে যারা বড় হবে তারা স্বাভাবিকভাবেই সেক্যুলার লিবারেল হবে। তাই আপনার এই কথাটা ঠিক না যে আপনার ছেলেমেয়েরা কোনো বায়াস ছাড়াই বড় হচ্ছে। ওরা সেক্যুলার গডের প্রতি একটি বিশাল বায়াস নিয়ে বড় হচ্ছে।

প্রথম ব্যাক্তি: আপনি তো দেখি আপেল আর কমলা গুলিয়ে ফেলেছেন।  লিবারেল সেক্যুলারিজম একটি পলিটিকাল আইডিওলজি, এটি কোনো ধর্ম নয়। এটি সব ধর্মকেই সমান স্বাধীনতা দেয়।

দ্বিতীয় ব্যাক্তি : না, আমি গুলিয়ে ফেলেনি। আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি ধর্ম বলতে শুধুমাত্র ইসলামকেই মিন করছি যেহেতু আমি একজন মুসলিম। ইসলাম অন্যান্য ধর্মের মতো শুধু একটি ধর্মই না এটি একটি পলিটিকাল আইডিওলজি-ও। এতে  শাসন, অর্থ, বিচার , সমাজ , বৈদেশিক নীতি সহ সব বিষয়েই দিকনির্দেশনা রয়েছে যা সেক্যুলার লিবারেল  আইডিওলজির সাথে সাংঘর্ষিক। দুটি বিপরীতমুখী  পলিটিকাল আইডিওলজি কখনই একসাথে  রুল করতে পারেনা, সম্ভবও নয়। তাই লিবারেল সেক্যুলারিজম ইসলামকে ব্যক্তিগত উপাসনামূলক  কিছু  কিছু  বিষয়গুলোতে ছাড় দিলেও পলিটিকাল বিষয়গুলোতে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয় না।


বাচ্চাদের উপর ধর্ম চাপানো - ১

 পাশের বাসার মহিলা # ভাবি কিছু মনে করবেননা একটা প্রশ্ন করি, আপনার মেয়ের কি হিজাব পড়ার বয়েস হয়েছে?


 মেয়ের মা # না তবে মাঝে মাঝে পড়াই যাতে করে হিজাবের সাথে ওর একটা সহজাত আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠে


পাশের বাসার মহিলা # এখন তো ওদের খেলার বয়েস এতো অল্প বয়েসেই ধর্ম চাপিয়ে দেওয়া কি ঠিক হচ্ছে ? ওরা বড় হোক, ভালোমন্দ বঝুক তারপর না হয় নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে হিজাব পড়বে কি পড়বেনা


 মেয়ের মা # আমি আপনার সাথে এই ব্যাপারে একমত নই, কারণটা হচ্ছে .......


পাশের বাসার মহিলা # থাক ভাবি আপনাকে আর বলতে হবেনা, আপনাকে খুব আপন মনে করি তাই একটু বললাম আর কি, কিছু মনে করবেননা


(অন্য আরেকদিন আবার দুজনের সাক্ষাৎ)


পাশের বাসার মহিলা # ভাবি আপনার বাচ্চাদের প্রতিদিন কতক্ষণ আইপ্যাডে খেলতে দেন ?


 মেয়ের মা # ওভাবে তো হিসেব করিনি তবে স্কুল থেকে বাসায় আসার পর কিছুক্ষন আর ছুটির দিনে সকালে এবং বিকালে


পাশের বাসার মহিলা # ভাবি সাবধান, ওদেরকে প্রতিদিন এক ঘন্টার বেশি স্ক্রিন টাইম দেবেননা। এর উপর একটা রিসার্চ রিপোর্ট বের হয়েছে, ওখানে বলা হয়েছে এর চেয়ে বেশি স্ক্রিন টাইম বাচ্চাদের মেন্টাল হেলথের জন্য খুবই খারাপ


মেয়ের মা #  ভাবি, ওদের তো এখন খেলার বয়েস। ওরা বড় হোক, ভালোমন্দ বঝুক তারপর না হয় নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে কতক্ষণ ওরা স্ক্রিন টাইম নেবে


হিজাব

 ভাগিনা # মামা শুনছেন, অমুক কলেজের প্রিন্সিপাল তো হিজাব ব্যান কইরা দিছে

 

মামা # খমোখা পানি ঘোলা কর কেন, উনি হিজাব ব্যান করেন নাই। উনি স্কুলের ইউনিফর্ম এনফোর্স করছেন। প্রত্যেকটা কলেজের একটা নীতিমালা আছে উনি সেইটা ফলো করছেন আর তা না হইলে তো যে যার ইচ্ছা তাই পইরা কলেজে আসবে


ভাগিনা # কিনতু হিজাব করা তো ফরজ, এই নব্বই ভাগ মুসলমান গো দেশে হিজাবটা ইউনিফর্ম কইরা দিলেই তো হয়

 

মামা # জোর কইরা ধর্ম চাপায়া দেয়ার জন্য কি আমরা মুক্তিযুদ্ধ করছি ? আর তাছাড়া এইটা আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতির সাথে যায়না

 

ভাগিনা  # হিজাব ইউনিফর্ম করলে যদি ধর্ম চাপায়া দেওয়া হয় তাইলে যে ধর্মীয় কারণে  হিজাব পড়তে চায় তাকে  হিজাব পড়তে না দিলে সেইটা কি তার উপর অন্য ধর্ম চাপায়া দেওয়া হইলো না?


মামা # তোমার মত কাঠমোল্লাদের নিয়া এই এক সমস্যা। তোমরা সবকিছুর মধ্যে ধর্ম নিয়া ষড়যন্ত্র খুইজা বাইর করো। আযান দিতাছে যাও মসজিদে গিয়া আল্লাহ বিল্লাহ করো


জীবন তো আসলে একটাই

 দুলাভাই # বুঝলি জীবন তো আসলে একটাই, তাই ভাবতাছি..............

শালা # দুলাভাই আপনের এই কথাটা ঠিকনা। জীবন আসলে দুইটা, ইহকাল আর পরকাল

দুলাভাই # দিলিতো মুডটা নষ্ট  কইরা, তরে একটা মজার কথা কইতে চাইছিলাম

শালা # আপনে পরকালে বিশ্বাস করেন অথচ যখন ভাবেন তখন আর ঐ বিশ্বাসটা আমলে নেন না তাইলে ঐ বিশ্বাস থাকলেই কি আর না থাকলেই বা কি

দুলাভাই  # আমি আমার বিশ্বাস ঠিকই আমলে নেই ঠিক জায়গা মত, তর মত সব জায়গায় ধর্ম টাইনা আনিনা

শালা # আমি সব জায়গায় ধর্ম টাইনা  আনিনা বরং ধর্মই  আমাদের সব জায়গায় টাইনা ধরে।  আমরা সবাই মুখে মুখে বলি ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা অথচ ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সমাজ কিংবা দেশের সমস্যার সমাধান খুজি সেকুলারিসম লিবেরালিসম আর ডেমোক্রেসি তে

দুলাভাই  # তুই শালা ইদানিং বেশী বুঝস । এতো বেশী বুঝলে লাইফটা এনজয় করতে পারবিনা। 


মুক্তচিন্তার চর্চা

 সেকুলাঙ্গার :- এই মোল্লা কই যাস? খাড়া, কথা আছে

যুবক :- আমার নাম মোল্লা হলো কবে থেকে

সেকুলাঙ্গার :- যেই দিন থিকা তুই প্যান্ট শার্ট পিন্দা বন্ধ কইরা আলখেল্লা ধরছোস সেই দিন থেইক্কা

যুবক :- কি কথা বলতে চান তাড়াতাড়ি বলুন আমার হাতে সময় বেশি নাই 

সেকুলাঙ্গার :- কালকা যে একজন ব্লগার রে তগো জঙ্গি ভাইরা জবাই করলো এই ব্যাপারে তোর মতকি? তুইকি সাপোর্ট করস এইটা? ত্যানা প্যাচায়বিনা, সোজা হ্যা অথবা না উত্তর দিবি। কিন্তু...... তবে...... এইসব ধানাই পানাই চলবনা

যুবক :- আমি উত্তর দিব কিন্তু তার আগে আমার একটা প্রশ্ন আছে

সেকুলাঙ্গার :- কি প্রশ্ন ?

যুবক :- আপনে কি চুরি করা ছেড়ে দিয়েছেন

সেকুলাঙ্গার :- তুই কি আমার লগে ফাইজলামি করস?

যুবক :- না, তবে এই প্রশ্নটা করলাম এটা বুঝাতে যে সব প্রশ্নের উত্তর শুধু হ্যা অথবা না দিয়ে দেয়া যায়না। আপনি আমার প্রশ্নের উত্তর হ্যা অথবা না যেটাই দিননা কেন এর মানে দাড়াবে হয় আপনি হয় আগে চোর ছিলেন নাহয় এখনো চোর আছেন। 

সেকুলাঙ্গার :- তো চান্দু তোমার ত্যানা প্যাচাইন্না উত্তরটাই না হয় শুনি

যুবক :- শোনেন, ইসলামের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন কিংবা বিতর্ক করতে কোনো বাধা নাই। আপনে আল্লাহর অস্তিত্ব কিংবা কোরান আল্লাহর বাণী কিনা কিংবা মোহাম্মদ (স: ) আল্লাহর রাসুল কিনা এইসব নিয়া প্রশ্ন অথবা এর বিপক্ষে যুক্তি তর্ক করতেই পারেন, এটা নিয়া ইসলামে কোনো বাধা নাই কিন্তু আপনে আল্লাহ কিংবা রাসুলকে নিয়ে গালাগালি করবেন, চটি লিখবেন এইটা ইসলামের দৃষ্টিতে অতি বড় গুনার কাজ। যেই ব্লগার গতকাল মারা গেছে, অনলাইন এ তার অনেক ঐসব জঘন্য লেখা দেখলাম। এই লেখা গুলি যদি সত্যই তার হয়ে থাকে তাহলে শরিয়া মোতাবেক তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড এবং আমি অবশ্যই চাই এইসব লোকদের মৃত্যুদন্ড হোক যেহেতু ইসলামে এইধরনের লোকদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। 

সেকুলাঙ্গার :- তো এহন যেহেতু খিলাফত নাই সেহেতু জবাই করা যায়েজ

যুবক :- না সেটা আমি বলিনি ।  ইসলাম আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বলে নাই। শরিয়া বলে নাই, যে কেউ ইচ্ছা করলেই যাকে ইচ্ছা তাকে শাস্তি দিতে পারবে। ইসলামের শাস্তি গুলো বাস্তবায়ন করতে হলে খিলাফত শাসন ব্যবস্থার  অধীনে করতে হবে এবং তা শরিয়া কোর্টের মাধ্যমে প্রমাণিত  হতে হবে। 

সেকুলাঙ্গার :- যেই লাউ হেই কদু , মুক্তচিন্তার চর্চা করলেই হেরে জবাই করা লাগব

যুবক :- এইবার আপনি ত্যানা প্যাচাচ্ছেন

সেকুলাঙ্গার :- যা ভাগ আমারে লেকচার দিবিনা 


হাজার বছরের বাঙালি

 সুবিধাবাদী রাবীন্দ্রিক মুসলমান হাজার বছর আগে হিন্দু ও বৌদ্ধ পূর্ব পূরুষদের মাঝে তার শেকড় খুঁজে পায় কিন্তু তারও বহু আগে আদম (আ: ) এর কাছে শেকড় খুজতে যায়না। কারণ ঐখানে গেলে তো আর পহেলা বৈশাখে প্যাচা সাইজ্জা নাচতে পারবেনা ।