Monday, May 18, 2026

১৯৭১: ইতিহাসের গোলকধাঁধা এবং কিছু অপ্রিয় সত্য



১৯৭১: ইতিহাসের গোলকধাঁধা এবং কিছু অপ্রিয় সত্য
আমাদের প্রচলিত রাজনৈতিক বয়ানে ১৯৭১ সালকে একটি ‘ধর্মনিরপেক্ষ পবিত্র তীর্থস্থান’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে আমাদের ইতিহাসের শুরু এবং শেষ। কিন্তু একজন নিরপেক্ষ বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে ইতিহাস কখনোই একরৈখিক (Linear) নয়। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও যখন পাকিস্তান, ভারত এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তিগুলোর বয়ান একে অপরের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তখন বুঝতে হবে আমরা ইতিহাসের কোনো সরল সত্য নয়, বরং একটি জটিল গোলকধাঁধায় বন্দি হয়ে আছি। কেন আজও এই আলোচনা প্রাসঙ্গিক? কারণ, যে অমিমাংসিত প্রশ্নগুলো ১৯৭১-এর জন্ম দিয়েছিল, সেগুলো আজও আমাদের তাড়া করে ফিরছে।

বঞ্চনা ছাড়িয়ে যখন ‘অবজ্ঞা’ বড় হয়ে দাঁড়ালো
১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট কেবল জিডিপির অসম বণ্টন বা অর্থনৈতিক বৈষম্যের গল্প নয়। পশ্চিম পাকিস্তানি এলিটদের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের প্রতি যে গভীর ‘সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অবজ্ঞা’ ছিল, সেটিই ছিল বিভাজনের আসল বীজ। কুদরতুল্লাহ সাহাব তাঁর আত্মজীবনী ‘সাহাব নামা’-তে একটি কুৎসিত চিত্র তুলে ধরেছেন। করাচির এক বৈঠকে ঢাকার সরকারি অফিসের জন্য স্যানিটারি সাপ্লাই কেনার প্রস্তাব উঠলে পাকিস্তানি এলিটরা উপহাস করে বলেছিলেন, "বাঙালিরা তো কলাগাছের আড়ালে কাজ সারে, তাদের জন্য কোমড বা ওয়াশবেশিনের কী দরকার?"
এই অবজ্ঞা বাঙালির ধর্মীয় সত্তা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তৎকালীন গভর্নর ফিরোজ খান নূন মন্তব্য করেছিলেন যে, বাঙালিরা হলো ‘অর্ধেক মুসলমান’। তিনি এমনকি বাঙালিদের খতনা বা সুন্নতে খতনা নিয়েও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিলেন। ভৌগোলিক দূরত্ব ছাপিয়ে দুই অংশকে এক রাখার যে ‘ইসলামী সেতুবন্ধন’ থাকার কথা ছিল, পশ্চিম পাকিস্তানি এলিটদের এই ‘জাহিলিয়াত’ বা অহংবোধ সেই সেতুটি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল।
"আমাদের মুসলমানিত্ব কি এখন লুঙ্গি তুলে তোমাদের প্রমাণ করে দেখাব?" — মাওলানা ভাসানী (ফিরোজ খান নূনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়)

পর্দার পেছনের কারিগর: সিরাজুল আলম খান ও ‘নিউক্লিয়াস’
ইতিহাসের গভীরে তাকালে দেখা যায়, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা কেবল একজন নেতার রোমান্টিক আহ্বানে তৈরি হয়নি। ১৯৬০-এর দশকের শুরু থেকেই সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে ‘নিউক্লিয়াস’ নামক একটি গোপন সংগঠন সক্রিয় ছিল। এই তরুণ ছাত্রনেতারা মার্ক্সবাদ, লেলিনবাদ এবং মাওবাদী আদর্শে গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
যেই পতাকা, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং স্বাধীনতার ইশতেহার আমরা দেখি, তার সবটুকুই ছিল এই রেডিক্যাল ছাত্রশক্তির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফসল। যখন শেখ মুজিব আলোচনার টেবিলে সমঝোতার পথ খুঁজছিলেন, এই নিউক্লিয়াস তখন রাজপথ নিয়ন্ত্রণ করছিল। ইতিহাসের এক অপ্রিয় সত্য হলো—মুজিব যখন আলোচনার টেবিলে ব্যস্ত, তখন এই উগ্র জাতীয়তাবাদী ছাত্রশক্তিই জনতাকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন বনাম স্বাধীনতা: একজন বাস্তববাদী মুজিব
শেখ মুজিবুর রহমানকে কেবল একজন ভাবাবেগী নেতা হিসেবে দেখা ইতিহাসবিস্মৃতি। তিনি ছিলেন একজন প্রখর বাস্তববাদী বা ‘ম্যাকাভেলিয়ান’ নেতা। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের অবমুক্ত হওয়া নথিতে আর্চার ব্লাডের রিপোর্টে দেখা যায়, ১৯৭১-এর জানুয়ারিতে ইয়াহিয়া ও মুজিবের মধ্যে একটি গোপন সমঝোতা হয়েছিল—যেখানে মুজিব প্রধানমন্ত্রী এবং ইয়াহিয়া প্রেসিডেন্ট থাকার কথা ছিল।
এমনকি ৭ই মার্চের সেই মহাকাব্যিক ভাষণের শেষেও তিনি ‘জয় পাকিস্তান’ (বা জিয়ে পাকিস্তান) বলেছিলেন, যার সাক্ষী এ কে খন্দকার এবং অলি আহাদের মতো ব্যক্তিত্বরা। এটি কোনো দুর্বলতা নয়, বরং একজন বাস্তববাদী নেতার কৌশল ছিল—যিনি নিয়মতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরকে অগ্রাধিকার দিচ্ছিলেন। ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুনের ভাষায় তিনি ছিলেন একজন ‘অনিচ্ছুক লিবারেটর’, যাকে পরিস্থিতির চাপে পড়ে এবং ভাগ্যচক্রে একটি স্বাধীন দেশের হাল ধরতে হয়েছিল।
"১৯৭০ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থান ছিল ১৯৪৬ সালের জিন্নাহর মতো—পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অবিসংবাদিত নেতা।" — ডক্টর মাহমুদুর রহমান (দ্যা পলিটিক্যাল হিস্ট্রি অফ মুসলিম বেঙ্গল)

ভুট্টো: অখণ্ড পাকিস্তানের আসল ঘাতক
পাকিস্তান ভেঙে যাওয়ার পেছনে যদি একক কোনো অপরাধী চিহ্নিত করতে হয়, তবে তিনি জুলফিকার আলী ভুট্টো। ইয়াহিয়া খানের হলফনামা এবং ঐতিহাসিক দলিলগুলো সাক্ষ্য দেয় যে, ভুট্টোর ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহাই ভারতকে হস্তক্ষেপের চূড়ান্ত সুযোগ করে দিয়েছিল।
ভুট্টো কোনোভাবেই একজন বাঙালির অধীনে কাজ করতে রাজি ছিলেন না। তাঁর ইগো এবং রাজনৈতিক জেদই পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে সশস্ত্র যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। ৭১-এর যুদ্ধ কেবল বাইরের ষড়যন্ত্র ছিল না, বরং এটি ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ শাসকশ্রেণির ক্ষমতার লালসার অনিবার্য পরিণতি।

আদর্শিক ব্যর্থতা এবং একটি অসম্পূর্ণ প্রকল্প
পাকিস্তান ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ হিসেবে ব্যর্থ হয়েছে কারণ এটি ছিল একটি ধর্মহীন এলিট শ্রেণির তৈরি ‘ইসলামী মুখোশধারী’ সেকুলার প্রজেক্ট। অন্যদিকে, এর প্রতিক্রিয়ায় জন্ম নেওয়া বাংলাদেশের ‘ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদ’ মূলত ভারতীয় আধিপত্যের একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
আমরা কি আসলেই মুক্তি পেয়েছি? ইতিহাসের এক নিষ্ঠুর পরিহাস হলো, ১৯৭১-এর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যে কায়দায় উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ বা বালুচিস্তানে দমন-পীড়ন চালিয়েছিল, বর্তমান বাংলাদেশেও গুম, খুন এবং ‘আয়না ঘর’-এর সংস্কৃতি সেই একই নিপীড়ক চরিত্রের প্রতিফলন ঘটায়। লেখকের ভাষায়, "আমরা ইসলামের ‘রুহ’ বা আত্মা হারিয়েছি এবং তা প্রতিস্থাপন করেছি মানুষের তৈরি ত্রুটিপূর্ণ ‘তন্ত্র-মন্ত্র’ দিয়ে।" আমরা তথাকথিত প্র্যাগমাটিজমের দোহাই দিয়ে স্বল্পমেয়াদী লাভ খুঁজছি, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আমরা এক ভয়াবহ ‘দুষ্টচক্রে’ বন্দি হয়ে পড়েছি।

উপসংহার: আমাদের গন্তব্য কোথায়?
১৯৭১ সালের ঘটনাপ্রবাহ আমাদের দেখায় যে, রাষ্ট্রযন্ত্রের চরিত্র না বদলালে কেবল মানচিত্র বদলিয়ে প্রকৃত মুক্তি আসে না। তৎকালীন পাকিস্তানি এলিটদের অবজ্ঞা আর বর্তমানের শাসনব্যবস্থার নিপীড়ন—দুটির উৎসই মূলত এক। আমরা ‘সিরাত-আল-মুস্তাকিম’ বা ইনসাফের সরল পথ ছেড়ে দিয়ে রাজনৈতিক চাতুর্যের গোলকধাঁধায় ঘুরছি।
আজ ৫৩ বছর পর আমাদের নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করা প্রয়োজন: আমরা কি কেবল একটি ভূখণ্ডগত স্বাধীনতা চেয়েছিলাম, নাকি একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ? যদি লক্ষ্য হয় ইনসাফ, তবে আমরা কি আজও সেই একই শোষক শ্রেণির হাতে বন্দি নই? আমরা কি কেবল শৃঙ্খল পরিবর্তন করছি, নাকি আসলেই মুক্ত হতে পেরেছি? যতক্ষণ না আমরা মানুষের তৈরি ত্রুটিপূর্ণ তন্ত্রের ঊর্ধ্বে উঠে একটি শাশ্বত ও ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থার দিকে ফিরে আসছি, ততক্ষণ এই গোলকধাঁধা থেকে আমাদের মুক্তি নেই।

( আসিফ আদনানের দেয়া একটি লেকচারের এ আই সারমর্ম )

Sunday, November 24, 2024

আল্লাহর দ্বীনের বিজয় আসবেই যদি আমরা ......

ব্যাক্তিগত পর্যায়ে ছাত্র-জনতা ওয়াহানকে (দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা) পরাজিত করতে পেরেছিল, তাই আল্লাহর অসীম রহমতে ৫ই আগস্টে আমরা মাফিয়া সর্দারনী হাসিনাকে উৎখাত করতে পেরেছি । ঠিক তেমনিভাবে আল্লাহর দ্বীনের বিজয় আসবেই যদি আমরা আমাদের ওয়াহানকে ইসলামের জন্য পরাজিত করতে পারি ইনশা আল্লাহ ।
আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘শীঘ্রই মানুষ তোমাদেরকে আক্রমন করার জন্য আহবান করতে থাকবে, যেভাবে মানুষ তাদের সাথে খাবার খাওয়ার জন্য একে-অন্যকে আহবান করে।’
জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হবো?’ তিনি বললেন, ‘না, বরং তোমরা সংখ্যায় হবে অগণিত কিন্তু তোমরা সমুদ্রের ফেনার মতো হবে, যাকে সহজেই সামুদ্রিক স্রোত বয়ে নিয়ে যায় এবং আল্লাহ তোমাদের শত্রুর অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দিবেন এবং তোমাদের অন্তরে আল-ওয়াহ্হান ঢুকিয়ে দিবেন।’ জিজ্ঞেস করা হলো, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.),আল– ওয়াহ্হান কি?’ তিনি বললেন, ‘দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।’ (মুসনাদে আহমদ)

Monday, October 7, 2024

একটি সুস্থ দাম্পত্য জীবনের জন্য অবশ্য পালনীয় তিনটি মূলনীতি

 


নিম্নে বর্ণিত এই তিনটি মূলনীতি একটি সুস্থ দাম্পত্য জীবনের জন্য অবশ্য পালনীয়ঃ 

১.  স্বামী/স্ত্রী উভয়ে উভয়ের নিত্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক চাহিদা পুরণ নিশ্চিত করেন

২.  স্বামী পারিবারিক বিষয়ে স্ত্রীর সাথে শলাপরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেন

৩.  স্ত্রী স্বামীকে পরিবারের নেতা হিসাবে সম্মান করেন এবং তাঁর আদেশ/সিদ্ধান্ত কে মেনে নেন যদিও সেগুলো তার কাছে অপছন্দনীয় হয় 

যারা এই মূলনীতিগুলোর ব্যাপারে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ জানতে চান তারা পারিবারিক বিষয়ে ইসলামি শারিয়ার বিভিন্ন গ্রন্থসমুহের সাহায্য নিতে পারেন

Saturday, October 5, 2024

বাবা হিসাবে সন্তানদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য


 


সন্তান জন্মানোর আগে : 

---------------------------------

১. যথাসম্ভব একজন মুত্তাকী মহিলাকে বিয়ে করা 

২. স্ত্রী সহবাসের আগে দুয়া পড়া যাতে অনাগত সন্তান শয়তানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পায় 

৩. নিজেকে একজন মুত্তাকী এবং দায়িত্বশীল পারিবারিক লিডার হিসাবে গড়ে তোলা 


সন্তান জন্মানোর পর : 

--------------------------------

১. একটি সুন্দর অর্থবহ নাম দেয়া যা শারিয়া অনুমোদিত 

২. আকিকা দেয়া এবং ছেলে সন্তান হলে খৎনা করানো 

৩. সন্তানদের ভরণপোষণ এর জন্য হালাল উপার্জন থেকে ব্যয় করা 

৪. সন্তানদের দ্বীনের শিক্ষা দেওয়া 

৫. সন্তানদের জন্য যথাসম্ভব একটি পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক ইসলামিক পরিবেশ নিশ্চিত করা 

৬. সন্তানদের সাথে যথেষ্ট পরিমাণ সময় কাটানো যাতে করে বাবা ও সন্তানদের মাঝে ভালবাসা ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং বাবার উপস্থিতিতে সন্তানরা নিরাপদ বোধ করে 

৭. মেয়ে সন্তানদের মুত্তাকী ছেলের সাথে বিয়ে দেয়া

৮. সন্তানদের মাঝে কোনরকম পক্ষপাতমুলক আচরণ না করা, হোক সে ছেলে সন্তান কিংবা মেয়ে সন্তান 

৯. সন্তানদের নিত্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক চাহিদা পুরণ  নিশ্চিত করা 

১০. সর্বোপরি বাবা এবং স্বামী হিসাবে নিজেকে একজন ইসলামিক রোল মডেল হিসাবে উপস্থাপন করা 


উপরে উল্লেখিত দায়িত্ব ও কর্তব্যের ব্যাপারে কোরান এবং সুন্নাহর রেফারেন্স জানতে নীচে দেয়া লিঙ্কগুলো দেখে আসতে পারেন 

https://www.aljumuah.com/the-rights-of-children-i/

https://www.aljumuah.com/the-rights-of-children-2-sarah-elshamy/

https://jamiat.org.za/the-position-of-a-father-in-islam/

https://seekersguidance.org/answers/hanafi-fiqh/rights-of-children-in-detail/


Saturday, August 5, 2017

ইসলামকে বোঝার স্বার্থেই কুফরকে জানা জরুরি

ইসলামকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমরা সচরাচর যে ভুলটি করি তা হচ্ছে, আমরা এমন সব শব্দ ব্যবহার করি যেগুলো অন্য আইডিওলজি থেকে ধার করা কিংবা বর্তমান ডোমিনান্ট আইডিওলজি ওই শব্দগুলোর নতুন অর্থ নির্ধারণ করে দিয়েছে যা ইসলামিক ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যেমন আমরা বলি ইসলাম শান্তির ধর্ম কিংবা মানবতার ধর্ম। সেক্যুলার লিবারেল ডিসকোর্সে শান্তি কিংবা মানবতা বলতে যা বোঝায় ইসলামে ঠিক একই জিনিস বোঝায় না। জিহাদকে লিবারেল ডিসকোর্সে কখনই শান্তিকামী বলা যাবেনা কিংবা হোমোসেক্সচুয়ালদের মৃত্যুদণ্ড অথবা চোরের হাত কাটা কখনই মানবিক হিসাবে গণ্য হবেনা। আরও উদাহরণ দেয়া যায়, যেমন ইসলামে সাকসেসফুল বলতে তাকেই বোঝানো হয় যে নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে  পেরেছে। কিন্তু এই সংগা ইসলামের বাইরে অন্য কোনো আইডিওলজিতে পাওয়া যাবেনা।

যারা বর্তমান যুগের সাথে সাংঘর্ষিক ইসলামের আহ্কামগুলোকে অন্য আইডিওলজি থেকে ধার করা শব্দ/ধারণা দিয়ে বোঝাতে কিংবা বুঝতে চেষ্টা করেন তাদের সামনে দুটি পথ খোলা থাকে, হয় আপনাকে ইসলামের ওই আহ্কামগুলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যা অন্য আইডিওলজির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর নাহয় আপনাকে ওই আহ্কামগুলোকে অস্বীকার করতে হবে এই বলে যে ওগুলো চৌদ্দশত বছর আগের সমাজের জন্য প্রযোজ্য ছিল। দুটি পথই আপনাকে ইসলাম থেকে দূরে নিয়ে যাবে। তাই ইসলামকে ইসলামিক ওয়ার্ল্ডভিউ দিয়েই বুঝতে এবং বোঝাতে হবে।

সারমর্ম :
ইসলামকে বোঝার স্বার্থেই কুফরকে জানা জরুরি। দুটোর যে কোনো একটাতে অজ্ঞতা থাকলে আমরা বুঝবো না কোথায় এদের বাউন্ডারি। তাই ইসলামের পাশাপাশি বর্তমান যুগের রুলিং আইডিওলজি লিবারেল সেক্যুলারিজম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।


Thursday, July 27, 2017

আমি ছোট থাকতেই বাচ্চাদেরকে কোনো বিশেষ ধর্মের অনুসারী করে গড়ে তোলার বিপক্ষে


ক : আমি ছোট থাকতেই বাচ্চাদেরকে কোনো বিশেষ ধর্মের অনুসারী করে গড়ে তোলার বিপক্ষে। আমি মনে করি এটা ফেয়ার না কারণ ওরা বুঝে উঠার আগেই আমরা ওদেরকে কোনো একটি ধর্মের প্রতি বায়াস করে ফেলছি।  তাই আমি আমার বাচ্চাদের কোনো ধর্মীয় শিক্ষা দিচ্ছিনা , ওরা বড় হয়ে নিজেরাই বেছে নেবে ওদের যেটা ভালো লাগে

খ : হুমম , তার মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন আপনার বাচ্চারা ধর্মের ব্যাপারে কোনো বায়াস ছাড়াই বড় হচ্ছে কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক তা নয়, ওরাও একটি বায়াস নিয়েই বড় হচ্ছে

ক: কিভাবে ?

খ: প্রথমেই আপনার আইডিওলজিক্যাল অবস্থানটা পরিষ্কার করে নেয়া যাক। আপনার মতে ধর্ম একটি ব্যক্তিগত বিষয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় এর নাক গলানোর কোনো সুযোগ নেই। আমি কি ঠিক বললাম?

ক: জ্বি ঠিক বলেছেন

খ: আপনি নিজেকে মুসলিম হিসাবে দেখেন কিন্তু ইসলাম ধর্মকে একমাত্র সত্য ধর্ম হিসাবে দেখেন না এবং আপনি মনে করেন সব ধর্মই সমান।

ক: জ্বি এটাও ঠিক ধরেছেন

খ: তার মানে হচ্ছে আপনি সেক্যুলার লিবারেল আইডিওলজিতে বিশ্বাস করেন। এই আইডিওলজি মানুষের স্পিরিচুয়াল পিপাসাকে অস্বীকার করেনা আবার এই পিপাসা পূরণ করার জন্য কোনো গাইডেন্সও দেয় না।  মানুষ কাকে সিজদা করলো সেটা নিয়ে এর কোনো মাথা ব্যাথা নেই। ধর্ম এর কাছে একটি গৌণ ব্যাপার। ঠিক এ কারণেই আপনার সন্তান বড় হয়ে কোন ধর্মে দীক্ষিত হলো সেটা আপনার কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।

ক: কিন্তু ধর্মের ব্যাপারে এখানে বায়াসনেসটা  কোথায় ?

খ: আমার আরও একটু ব্যাখ্যা বাকি আছে।  আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই সেক্যুলার লিবারেল আইডিওলজি যেটা আপনার জীবনের মাপকাঠি। যেটা দিয়ে আপনি ধর্মকেও  বিচার বিবেচনা করেন। তো সত্যিকার অর্থে আপনি উপাসনা করেন সেক্যুলার গডকে এবং এটাই আপনার ধর্ম। বর্তমান বিশ্বে এই সেক্যুলার গডের জয়জয়কার।  দেশ, জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সবাই (খুবই ক্ষুদ্র ব্যতিক্রম ব্যতীত) এই সেক্যুলার গডের অনুসারী। আমাদের ছেলেমেয়েরা দিনভর এই সেক্যুলার গডের শিক্ষাই পাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ব্যবস্থা, বিশ্ব ব্যবস্থা সবই চলছে এই গডের শিক্ষা অনুসারে। এমনকি ওদের সমস্ত  এন্টারটেইনমেন্টও এই শিক্ষার আলোকেই   গড়া। তো এর মানে হচ্ছে আপনি সত্যিকার অর্থে যে ধর্মে বিশ্বাস করেন আপনার ছেলেমেয়েরাও ১০০%   ঠিক সেই ধর্মের শিক্ষাই  পাচ্ছে। আপনি না শেখালেও রাষ্ট্র এবং  বিশ্ব আপনার  বাচ্চাদের সেক্যুলার গডের  শিক্ষা দিচ্ছে । অন্য ধর্মের তুলনায় আপনার সেক্যুলার ধর্ম আনপ্যারালাল প্রিভিলেজ পাচ্ছে। এইরকম একটি পরিবেশে যারা বড় হবে তারা স্বাভাবিকভাবেই সেক্যুলার লিবারেল হবে। তাই আপনার এই কথাটা ঠিক না যে আপনার ছেলেমেয়েরা কোনো বায়াস ছাড়াই বড় হচ্ছে। ওরা সেক্যুলার গডের প্রতি একটি বিশাল বায়াস নিয়ে বড় হচ্ছে।

ক: আপনি তো দেখি আপেল আর কমলা গুলিয়ে ফেলেছেন।  লিবারেল সেক্যুলারিজম একটি পলিটিকাল আইডিওলজি, এটি কোনো ধর্ম নয়। এটি সব ধর্মকেই সমান স্বাধীনতা দেয়।

খ: না, আমি গুলিয়ে ফেলেনি। আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি ধর্ম বলতে শুধুমাত্র ইসলামকেই মিন করছি যেহেতু আমি একজন মুসলিম। ইসলাম অন্যান্য ধর্মের মতো শুধু একটি ধর্মই না এটি একটি পলিটিকাল আইডিওলজি-ও। এতে  শাসন, অর্থ, বিচার , সমাজ , বৈদেশিক নীতি সহ সব বিষয়েই দিকনির্দেশনা রয়েছে যা সেক্যুলার লিবারেল  আইডিওলজির সাথে সাংঘর্ষিক। দুটি বিপরীতমুখী  পলিটিকাল আইডিওলজি কখনই একসাথে  রুল করতে পারেনা, সম্ভবও নয়। তাই লিবারেল সেক্যুলারিজম ইসলামকে ব্যক্তিগত উপাসনামূলক  বিষয়গুলোতে ছাড় দিলেও পলিটিকাল বিষয়গুলোতে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয় না।

Wednesday, July 12, 2017

"ওয়ার অন টেরর" -এর বাংলা কি?

প্রথম ব্যক্তি # বলেন তো  বর্তমান বিশ্বে চলমান ইসলামের বিরুদ্ধে  যুদ্ধের ইংরেজি নাম "ওয়ার অন টেরর" -এর বাংলা কি?

দ্বিতীয় ব্যক্তি #  সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ 

প্রথম ব্যক্তি #  উহু, হইলো না, এর বাংলা হইলো "মুক্তিযুদ্ধের চেতনা"