এটি একটি সভ্যতাভিত্তিক, ইসলামি আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা।
এখানে নাগরিকত্বের মর্যাদা নির্ধারিত হয় মানবিক মর্যাদা ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে।
সমালোচকরা বলেন: “অমুসলিমরা রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারে না, তাই তারা সমান নয়।” এই যুক্তি ভুল, কারণ:
কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপ্রধান কমিউনিস্ট হতে হয়
ভ্যাটিকানে রাষ্ট্রপ্রধান ক্যাথলিক
ইহুদি ধর্মীয় আদালতে বিচারক ইহুদি
সেক্যুলার পার্টির নেতা সেক্যুলার মূল্যবোধ মানতে বাধ্য
কেউ বলে না:
“ভ্যাটিকান অমুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করে।”
“কমিউনিস্ট রাষ্ট্র পুঁজিবাদীদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানায়।”
কারণ নেতৃত্বের শর্ত মানবিক মর্যাদা নয়—আদর্শিক দায়িত্ব।
রাষ্ট্রপ্রধানকে:
ইসলামি আইন বাস্তবায়ন
জুমার খুতবা দেওয়া
ঈদের নামাজ পরিচালনা
ধর্মীয় সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব
শরিয়াহ অনুযায়ী জবাবদিহি
—এসব দায়িত্ব পালন করতে হয়।
একজন অমুসলিমকে এসব ধর্মীয় দায়িত্ব দেওয়া অযৌক্তিক ও অবাস্তব।
আরেকটি অভিযোগ: “অমুসলিমরা জিজিয়া দেয়, তাই তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক।” এটিও ভুল ধারণা।
অমুসলিমরা জাকাত দেয় না
ইসলামি আইনে: মুসলিমরা যুদ্ধ করে রাষ্ট্র রক্ষা করে
অমুসলিমরা যুদ্ধে বাধ্য নয় । তাই তারা একটি সামান্য নাগরিক কর দেয়, যার নাম জিজিয়া ।
এটি আধুনিক রাষ্ট্রে: সামরিক সেবা না করলে অতিরিক্ত কর দেওয়ার মতো বা “civilian exemption tax” এর মতো
ইতিহাসে: দরিদ্র, নারী, শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ, সন্ন্যাসী—সবাই জিজিয়া থেকে মুক্ত । অনেক অঞ্চলে জিজিয়া জাকাতের চেয়ে কম ছিল
ইসলামি সমতা মানে: সমান মানবিক মর্যাদা, সমান আইনি সুরক্ষা, সমান বিচার, সমান নাগরিক অধিকার । কিন্তু সমতা মানে একই ধর্মীয় দায়িত্ব নয়। যেমন:
নারী ও পুরুষ সমান—কিন্তু দায়িত্ব ভিন্ন
সৈনিক ও সাধারণ নাগরিক সমান—কিন্তু দায়িত্ব ভিন্ন
মুসলিম ও অমুসলিম সমান—কিন্তু ধর্মীয় দায়িত্ব ভিন্ন
এটি শুধু তত্ত্ব নয়—ইতিহাসের বাস্তবতা।
ইহুদিরা ইউরোপীয় নির্যাতন থেকে পালিয়ে মুসলিম রাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিল
খ্রিস্টানরা প্রশাসনে উচ্চ পদে ছিল । অমুসলিমরা মন্ত্রী, চিকিৎসক, কূটনীতিক, পণ্ডিত—সবই ছিল বহু অমুসলিম অঞ্চল স্বেচ্ছায় মুসলিম শাসন গ্রহণ করেছিল যদি তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হতো—এটি সম্ভব হতো না।
বাংলাদেশে ইসলাম ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে:
অমুসলিমরা সমান নাগরিক
সমান আইনি সুরক্ষা
সমান মানবিক মর্যাদা
সমান বিচার
সমান সম্পদ অধিকার
সমান ধর্মীয় স্বাধীনতা
তাদের দায়িত্ব ভিন্ন হতে পারে— কিন্তু মর্যাদা কখনোই ভিন্ন নয়।
ইসলামি রাষ্ট্রে মুসলিম ও অমুসলিমের নাগরিক মর্যাদা সমান— দায়িত্ব ভিন্ন। দায়িত্বের ভিন্নতা কখনোই নাগরিকত্বের অসমতা নয়।
No comments:
Post a Comment